দিনে দুপুরে ভেঙ্গে পড়ল জলের ট্যাংক ! জল না পাওয়ার আশঙ্কায় ১২ টি গ্রাম

91

 

কৈলাস বিশ্বাস,22 জানুয়ারি,বাঁকুড়াঃ  ভরদুপুরে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল পরিশ্রুত পানীয় জল প্রকল্পের ট্যাঙ্ক। বাঁকুড়ার সারেঙ্গার ফতেডাঙ্গা গ্রামের ঘটনা।কংক্রিটের জলের ট্যাঙ্কে হালকা ফাটল দেখা গিয়েছিল আগেই। নজর পড়তেই ব্যবস্থা নেওয়ার তোড়জোড়ও শুরু হয়েছিল। কিন্তু তার আগেই ঘটে গেল বিপত্তি। আচমকা হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল জনস্বাস্থ্য কারিগরী দপ্তরের জলের ট্যাঙ্ক। বুধবার দুপুর ৩ টে নাগাদ এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঐ জলের ট্যাঙ্কটির নির্মাণে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সংস্থার গাফিলতি রয়েছে বলে অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। যদিও এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর মেলেনি।তবে হঠাৎ কেন এই জলের ট্যাঙ্কটি এমনভাবে ভেঙে পড়ল তা খতিয়ে দেখছে জনস্বাস্থ্য কারিগরী দপ্তর।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দুপুর তিনটে নাগাদ আচমকা বিকট শব্দে জলের ট্যাঙ্কটি ভেঙে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে ট্যাঙ্কে মজুত অবশিষ্ট জল হু হু করে আশেপাশের জমিতে পড়ে যায়। আচমকা এমন ঘটনায় এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। চারপাশের মানুষজন নিমেষের মধ্যে সেখানে ভিড় করেন। প্রত্যক্ষদর্শী বাবুলাল মুর্মু বলেন, “জল ট্যাঙ্কে থেকে কিছুটা দূরে গরু বেঁধেছিলাম। সেখানেই আমি দাঁড়িয়েছিলাম। আচমকা দেখি জলের ট্যাঙ্কটা হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ছে। তবে এদিন সকালেই ওই জলট্যাঙ্কিতে হালকা ফাটল দেখা যাচ্ছিল। জল চুঁইয়ে পড়ছিল। তারই মধ্যে আচমকা এটা ঘটে গেল। আমরা কিছু বুঝতে পারছি না।” এলাকার বাসিন্দা তথা সারেঙ্গা ব্লক তৃণমূল সভাপতি ধীরেন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, “কীভাবে এত বড় একটা জলের ট্যাঙ্ক ভেঙে পড়ল বুঝতে পারছি না। প্রশাসন বিষয়টি দেখে ব্যবস্থা নিক এটাই আমরা চাইছি।” সারেঙ্গার বিডিও সংলাপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ওই জল ট্যাঙ্ক নির্মাণ ও জল সরবরাহের বিষয়টি দেখে জনস্বাস্থ্য কারিগরী দপ্তর। এ ব্যাপারে জনস্বাস্থ্য কারিগরী দপ্তরের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে।”

জনস্বাস্থ্য কারিগরী দপ্তরের বাঁকুড়া ডিভিশনের জল সরবরাহ বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার সুমন প্রামাণিক বলেন, “সারেঙ্গার ফতেডাঙ্গা এলাকায় অবস্থিত ওই জলের ট্যাঙ্কটি ২০১৬ সালে তৈরি করা হয়। ওই কাজের বরাতপ্রাপ্ত ঠিকাদার সংস্থাটির হাতেই জলের ট্যাঙ্কটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব রয়েছে। ৫ বছর জল ট্যাঙ্কে ফাটল ধরবে না বলেই জানিয়েছিল নির্মাণকারী সংস্থা। এখনও ওই জলের ট্যাঙ্কটি রক্ষণাবেক্ষণের ভার আমাদের হাতে তুলে দেয়নি। এদিন সকালে ওই জলের ট্যাঙ্কে চিড় দেখা দিয়েছিল। দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি সংস্থা ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই আচমকা সেটি ভেঙে পড়েছে। কী কারণে এই বিপত্তি তা খতিয়ে দেখা হবে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। নতুন করে ওই ঠিকাদার সংস্থা সেটি তৈরি করে দেবে। ওই ট্যাঙ্কে ৭ লক্ষ লিটার জল মজুত থাকত। গড়গড়িয়া ও বিক্রমপুর পঞ্চায়েতের ১২ টি গ্রামে জল সরবরাহ করা হয়। তবে জল মজুত না থাকলেও ওই এলাকায় জল সরবরাহে কোনও অসুবিধা হবে না। সরাসরি পাম্প থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে জল সরবরাহ করা হবে।”

এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এবং ঐ জলপ্রকল্পের কর্মী সাগুন মুর্ম্মু বলেন, মাত্র পাঁচ দশ মিনিটের মধ্যে প্রবল শব্দে ঐ জলের ট্যাঙ্কটি ভেঙে পড়ে। আরেক প্রত্যক্ষদর্শী অর্চণা হেম্ব্রমের কথায়, বিকট আওয়াজ পেয়ে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে এসে দেখি জলের ট্যাঙ্কটি ভেঙে পড়ছে। দীর্ঘদিন এই জলই তাঁরা পানীয় হিসেবে ব্যবহার করতেন। এবার তাঁদের সমস্যায় পড়তে হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা দেবেন মুর্ম্মুর দাবি, নির্মাণকাজে গাফিলতি থাকার কারণেই এই জলের ট্যাঙ্কটি ভেঙে পড়েছে। ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছে সারেঙ্গা থানার পুলিশ।