বিশ্বভারতীতে ‘বাংলাদেশ ভবন’ জন্মভিটে জোড়াসাঁকোয় ‘বাংলাদেশ গ্যালারী’

165

 

খবরএইসময়,8 ফেব্রুয়ারি,কলকাতাঃ বাংলাদেশের সঙ্গে কবিগুরুর সম্পর্ক ছিল নাড়ীর বা হৃদয়ের।বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্পর্কের নানা দিক তুলে ধরতে তথা সেদেশে কবির বিভিন্ন ব্যবহৃত জিনিসকে সংরক্ষণ করতে আগেই বোলপুরের বিশ্বভারতীতে তৈরি হয়েছে ‘বাংলাদেশ ভবন।’  এবার কবিগুরুর জন্মভিটে কলকাতার জোড়াসাঁকোয় গড়ে উঠতে চলেছে ‘বাংলাদেশ গ্যালারি’। শনিবার বিকালে কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে এই জোড়াসাঁকো ক্যাম্পাসেই “বাংলাদেশ ও রবীন্দ্রনাথ” শীর্ষক এই গ্যালারি’র ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়। এই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন বাংলাদেশের সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে.এম.খালিদ এমপি। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের সংস্কৃতি সচিব আবুহেনা মোস্তফা কামাল, বাংলাদেশের এমপি অসীম কুমার উকিল, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সব্যসাচী বসু রায়চৌধুরী, কলকাতা বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনার তৌফিক হাসান সহ অন্য কর্মকর্তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০ বছর উদযাপন উপলক্ষে জোড়াসাঁকো ঠাকুর বাড়ির একটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গা বেছে গড়ে উঠতে চলেছে এই গ্যালারি। ক্যাম্পাসের দ্বিতীয় তলে কবিগুরুর শয়ন কক্ষের উল্টোদিকে দুইটি ঘর ও একটি সুবিশাল বারান্দা নিয়ে গড়ে উঠবে এই গ্যালারি। বাংলাদেশের সংস্কৃতি বিষয় মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে এই গ্যালারি গড়ে উঠছে। প্রাথমিক ভাবে এরজন্য ৭৫ লাখ ভারতীয় রুপি বরাদ্দ করেছে বাংলাদেশ সরকার। আগামী এক বছরের মধ্যে এই গ্যালারি নির্মানের কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।
পরে সংক্ষিপ্ত সংবাদ সম্মেলন থেকে মন্ত্রী জানান “প্রায় ১০ বছর আগে জায়গাটি দেওয়া হয়েছিল অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই কাজটি শুরু করা গেছে। প্রতীক্ষিত এই বাংলাদেশ গ্যালারিটি গড়ে তুলতে বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে যা যা সহযোগিতা দরকার সব ঠিক করা হবে।” তিনি আরো বলেন
“এই জায়গায় কবিকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা ও বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করতে যা যা করার দরকার তা করা হবে। আগামী বছরের মার্চের মধ্যে গ্যালারি নির্মাণের কাজ সম্পন্ন হবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন প্রতিমন্ত্রী।”
এর আগে কবিগুরুর শয়ন কক্ষ্য, প্রয়াণ কক্ষ্য, আঁতুড়ঘর ঘুরে দেখেন বাংলাদেশের মন্ত্রী। প্রস্তাবিত বাংলাদেশ গ্যালারির, ঝুলন্ত বারান্দা সহ কয়েকটি জায়গাও ঘুরে দেখেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী এবং ফুল দিয়ে কবিকে শ্রদ্ধাও জানান তিনি।
প্রয়াত সুনীল গাঙ্গুলীর একটি লাইন উদ্ধৃতি করে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সব্যসাচী বসু রায়চৌধুরী বলেন “বাংলার কবি সুনীল গাঙ্গুলী বলেছিলেন কেউ কথা রাখেনি, কিন্তু দেরিতে হলেও আমরা কথা রাখার পথে এগোচ্ছি। এটাই আমাদের যৌথ প্রত্যয়।”
বাংলাদেশের সঙ্গে কবিগুরুর সম্পর্ক ছিল নাড়ীর, হৃদয়ের। বাংলাদেশের যে সমস্ত জায়গা রবীন্দ্রনাথের জীবনের সাথে জড়িয়ে রয়েছে সেই জায়গাগুলোই মূলত তুলে ধরা হবে এই গ্যালারিতে। বাংলাদেশের শিলাইদহে থাকাকালীন বিশ্বকবি রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের রচিত কবিতা, গান ও বিভিন্ন মুহুর্তের ছবি সহ বাংলাদেশের ইতিহাস রাখা হবে। ঠাঁই পাবে শিলাইদহে থাকাকালীন কবি যে ঐতিহাসিক নৌকোটি ব্যবহার করতেন তার একটি প্রতিকৃত রূপ (রেপ্লিকা)ও এই গ্যালারিতে স্থান পাবে। রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে যত বই, যত গবেষণা লেখা হয়েছে তাও এখানে সংগ্রহ করে রাখা হবে। বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের শিল্পীদের হাতের আঁকা কবিগুরুর দুষপ্রাপ্য ছবিগুলি সুন্দর করে সাজিয়ে রাখা হবে।